চলতি ঘটনা | 11.10.2008
অর্থসঙ্কটে জি-সেভেনের যৌথ প্রতিক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি
কিন্তু সেই যৌথ প্রতিক্রিয়াটা যে কি হবে, অথবা আদৌ হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ যৌথ না হয়ে হয়তো শেষমেষ শুধুমাত্র সমন্বয়কৃত হবে৷ অথচ শেয়ারবাজারে ডামাডোল চলেছে৷
ওয়াশিংটনে বিশ্বের সাতটি নেতৃস্থানীয় শিল্পোন্নত দেশের অর্থমন্ত্রীবর্গ এবং সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক প্রধানেরা একত্র হয়েছেন৷ বসছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল এবং বিশ্বব্যাঙ্কের যুগ্ম বাত্সরিক সম্মেলন৷ কাজেই এই সঙ্কটের মুহুর্ত্তে মানুষের কিছু প্রত্যাশা থাকবে বৈকি৷ কিন্তু জি-সেভেন থেকে এযাবত্ বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ কিছু শোনা যায়নি৷ এবং যেটুকু বোঝা গেছে, সেটা হল এই, যে বিভিন্ন দেশ তার নিজের প্রয়োজন মতো এবং প্রয়োজন বুঝে ব্যবস্থা নেবে, যুক্তরাষ্ট্র অথবা ব্রিটেন যা ইতিমধ্যেই করেছে এবং জার্মানী খুব সম্ভবতঃ যা করতে চলেছে৷ কে জানে, হয়তো এর চাইতে বেশী আশা করাটাই ভুল হতো৷
আশা-নিরাশা
কাজেই ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী এ্যালিস্টেয়ার ডার্লিং এবার একটু ঘুরিয়ে বলেছেন, যে সপ্তাহান্তের বৈঠকের উদ্দেশ্য হল বিশ্ববাসীকে দেখানো, যে সরকারবর্গ পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর৷ এবং শেষের কমিউনিকে বা চূড়ান্ত ঘোষণা থেকেও যে ওর চাইতে বেশী আশা করা চলবে না, বলে আভাস দিয়েছেন ফরাসী অর্থনীতিমন্ত্রী ক্রিস্টিন লাগার্দ৷ তিনি বলেছিলেন, যে জি-সেভেনের সমন্বয়কৃত প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা না করে সাধারণ নীতি সংক্রান্ত ঐক্যমত্য প্রত্যাশা করাই ভালো৷
আসা যাক এই সাধারণ নীতির কথায়৷ এই সাধারণ নীতির মধ্যে একটি হবে, যদি ইউরোপীয়দের কাম্য ধরতে হয়, যে কোনো বড় ব্যাঙ্ককে ফেল করতে দেওয়া হবে না৷ কিন্তু মার্কিণ অর্থমন্ত্রী হেনরি পলসনকে এ-ধরণের একটি প্রতিশ্রুতিতে রাজী করানো যাবে কিনা, তা এখনো পর্য্যন্ত কেউ জানে না৷
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র যে সরাসরি ব্যাঙ্কগুলির আংশিক মালিকানার পথ ধরেছে, এবং ব্রিটেনও বস্তুতঃ যে-পথে গেছে, সে-পথ একাধিক ইউরোপীয় দেশের পছন্দ নয়৷ যদিও এখন খোদ জার্মান সরকারেরও ঠিক ঐ পথে যাবারই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে৷
ইতালী আগে থেকেই ক্ষুব্ধ, কেননা ইতালী চেয়েছিল ইউরোপ জুড়ে ব্যাঙ্কগুলিকে বাঁচানোর জন্য একটি ফান্ড বা তহবিল, কিন্তু জার্মানী তাতে রাজী হয়নি৷
ওয়াশিংটনে একটি প্রস্তাব হয়তো উত্রে গেলেও যেতে পারতো৷ সেটি হল ব্যাঙ্কগুলি পরষ্পরকে যে ঋণ দেয়, অন্ততঃ তার সরকারী গ্যারান্টি দেওয়ার একটি ব্রিটিশ প্রস্তাব৷ কিন্তু এখানেও পলসনের, অর্থাত্ যুক্তরাষ্ট্রের অসম্মতি৷
অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা
আসলে জার্মান অর্থমন্ত্রী পেয়ার স্টাইনব্রুক ওয়াশিংটনে যেমন আভাস দিয়েছেন, যে কিছু জার্মান ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে জার্মান সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেও করতে পারেন, তেমনই তিনি কোনো আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে উচ্চবাচ্য করেননি৷ আর এই জি-সেভেন বৈঠকের প্রাক্কালেই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজ়ারি সেক্রেটারী হেনরি পলসনকে মন্তব্য করতে শোনা গেছে, যে জি-সেভেনের দেশগুলির, এবং তাদের আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে বিপুল ফারাক৷ কাজেই একই ধরণের নীতির কথা ভাবার কোনো মানে হয় না৷
অর্থসঙ্কটে আগল দেবার পন্থা না হয় বার হল, কিন্তু তবুও থাকছে শেয়ারবাজারের টালমাটাল৷ থাকছে বিশ্বব্যাপী আস্থার সঙ্কট, এবং তার ফলশ্রুতি হিসেবে আগামীতে মন্দার কালো ছায়া৷ প্রেসিডেন্ট বুশ বলছেন, ওটা ভয় থেকে ভয়৷ আসলে পরিস্থিতি সামাল দেবার মতো৷ কে জানে, হয়তো তাঁর কথাই ঠিক৷

















