1. খোঁজ
  2. ৩০টি ভাষার মধ্যে বেছে নিন

 
 
 

 

চলতি ঘটনা  | 10.10.2008

জার্মান পত্রিকায় দক্ষিণ এশিয়া

ভারতের বিখ্যাত টাটা মোটর্স কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারের অব্যাহত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে, সিঙ্গুর থেকে তাদের কারখানা সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে৷

এ-ঘোষণার উপর আলোকপাত করেছে জার্মানির একটি দৈনিক পত্রিকা৷

বার্লিনের টাগেসসাইটুং লিখেছে : কৃষি বনাম শিল্প - কোনটাকে প্রাধান্য দেবে সরকার ? এ-প্রশ্নের উত্তর দিতে যেন হিমসিম খাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ-সরকার৷ ভারতের এই রাজ্যটিতে এর আগেও বহুবার বেশ কিছু প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে এই একই কারণের জের ধরে৷ ৯০-এর দশকের শুরু থেকে অবাধ অর্থনৈতিক নীতিকে ধীরে ধীরে মেনে নিতে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গও৷ ভারতে বামপন্থী আন্দোলনের ইতিহাসে সেটা ছিল এক নতুন অধ্যায়৷ কিন্তু, ভূমি সংস্কারের সফলতার জন্য শিল্পকে প্রয়োজন৷ তাই শিল্পায়নে ব্রতী সরকার কৃষিজমি অধিগ্রহণে আগ্রহী হয়৷ সেই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ঠেকাতে শুরু হয় আন্দোলন৷ কারণ, পুঁজির যুক্তি দিয়ে চললে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক কৃষকদের আর কি অবশিষ্ট থাকবে ?

তাই টাটার কর্ণধার রতন টাটা অবশেষে ঘোষণা দিয়েছেন, যে তিনি শ্রমিক কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই টাটার কারখানা অন্যত্র হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মন্ডলে টাটার ভাবমুর্তি খানিকটা নীচের দিকে নামতে পারে বলে অনেকে মন্তব্য করলেও, এবার টাটা গুজরাটমুখী৷ সে রাজ্যের রাজধানী আহমেদাবাদ থেকে মাত্র ৩৫ কিলিমিটার দুরে এবার ন্যানোর নতুন কারখানা গড়তে চলেছে টাটা৷ সিঙ্গুরের মত ৯৯৭ একর নয়৷ এখানে প্রায় ১৪০০ একর জমি দিতে রাজি হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ বার্লিনের টাগেসসাইটুং এ-বিষয়ে লিখেছে : গুজরাটের বিজেপি সরকার সানন্দে টাটাকে জমি দিতে রাজি হয়েছে৷ স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার সরকার প্রাধান্য দিচ্ছে বিনিয়োগকারীদের৷ ক্ষুদ্র কৃষকদের নয়৷

এবার ভারত সম্পর্কিত অন্য একটি প্রসঙ্গে আসা যাক৷ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিসা রাইস ভারত সফরে এসেও ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তিটি স্বাক্ষর করলেন না৷

এই ঘটনায় অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে নয়ে স্যুরিসার সাইটুং লিখেছে : পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি পথ ঘুরে এসে রাইস জানালেন, যে চুক্তিটি স্বাক্ষর না করার পিছনে কিছু প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে৷ অথচ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লু বুশ ২০০৫ সালে এই চুক্তি সম্পর্কে ঐকমত্যে  পৌঁছেছিলেন৷ এরপর, মার্কিন সেনেট ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তিটি অবশেষে অনুমোদন করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লু বুশ সন্তোষ প্রকাশ করেন৷ তিনি চুক্তিটিকে তাঁর শাসনামলে একটি অন্যতম সাফল্য বলে অভিহিত করেন৷ কিন্তু, রাইস চুক্তিটি স্বাক্ষর না করায়, সব সন্তুষ্টিই ভূপাতিত হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, ২০০৫ থেকে যে কঠিন যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা অবশেষে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল৷ ভারতে বাম ও বিজেপির বিরোধ, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সমস্যা ইত্যাদি কাটিয়ে কার্যকর হলো ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তিটি৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ  বুশের স্বাক্ষরদানের পর গত শুক্রবার আইনে পরিণত হয়েছে এই দ্বিপক্ষীয় 123 পরমাণু চুক্তিটি৷

 

দেবারতি গুহ

 
এই প্রতিবেদন অন্যদের পাঠান

আমাদের ই-মেল পাঠানঅন্যদের পাঠানপ্রিন্ট করুন

Weitere Schlagzeilen



 

DW-TV EUROPE live

drive it! - The Motor Magazine